একটি গোষ্ঠী সড়ক আইনকে দুর্বল করতে চাচ্ছে

একটি গোষ্ঠী সড়ক পরিবহন আইনকে দুর্বল করতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলছে, সড়ক পরিবহন আইন করার চার বছর পরেও বিধিমালা হয়নি কার স্বার্থে।

দ্রুত আইনের বিধিমালা জারি করার দাবি জানিয়েছে তারা। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর অধীনে বিধিমালা দ্রুত জারি করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে রোড সেফটি কোয়ালিশন।

একটি গোষ্ঠী সড়ক আইনকে দুর্বল করতে চাচ্ছে

নিরাপদ সড়ক চাইয়ের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, চার বছরেও সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালা তৈরি হয়নি। একটি গোষ্ঠী শুরু থেকেই আইনটিকে দুর্বল করতে চাচ্ছে। আইন সংশোধনের দাবিতে তারা আন্দোলনও করেছে। আইনটি কার্যকর করতে হলে দ্রুত বিধিমালা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর ২৫ হাজার মানুষ মারা যায় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বিভিন্ন সংগঠনের সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যে বিস্তর ফারাকের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, বেসরকারি সংগঠনগুলো গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার প্রতিবেদন তৈরি করে। এসবই সেকেন্ডারি তথ্য, পূর্ণাঙ্গ তথ্য না। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ব বেসরকারি সংগঠনের না। এ প্রতিবেদন সরকারের করা উচিত। দীর্ঘদিন ধরে বলা হলেও সরকার এ প্রতিবেদন তৈরি করছে না।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্র্যাকের রোড সেইফটি প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপক খালিদ মাহমুদ। তাতে বলা হয়, ২০১৮ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন আইন পাস হয়। বহুল আলোচিত এ আইন পাস হওয়ার চার বছর পূর্ণ হলেও তা বাস্তবায়নে বিধিমালা তৈরি হয়নি। ফলে সড়ককে নিরাপদ করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও আইনের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সড়কে প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না শৃঙ্খলা, বাড়ছে মৃত্যু।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইনের কিছু সবল দিক থাকলেও এর সীমাবদ্ধতা প্রচুর। আইনটিতে মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য হেলমেট পরার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেটির মানদণ্ড ও ব্যবহারবিধি আইনে অনুপস্থিত। আইনে গতিসীমা লঙ্ঘনে শাস্তির বিধান থাকলেও গতিসীমা নির্ধারণ, এর বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা ও গাইডলাইনের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এ ছাড়া যাত্রীদের সিটবেল্ট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা ও শিশুদের জন্য নিরাপদ বা সুরক্ষিত আসন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আইনটিতে সংযোজন করা হয়নি।

একটি গোষ্ঠী সড়ক আইনকে দুর্বল করতে চাচ্ছে

সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রামের পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চের পরিচালক সেলিম মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা আহ্‌ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মিডিয়া কো–অর্ডিনেটর রেজওয়ান নবীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে এ বছরের শুরুতে রোড সেফটি কোয়ালিশন বাংলাদেশ নামে যৌথ প্রচেষ্টার শুরু হয়। এর সদস্য সংস্থাগুলো হচ্ছে নিরাপদ সড়ক চাই, ব্র্যাক, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বুয়েট), বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ অর্থপেডিক সোসাইটি, বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন এবং ইম্প্রেসিভ কমিউনিকেশন লিমিটেড।

 

 

গোষ্ঠী গোষ্ঠী  গোষ্ঠী  

রূপপুরের ঋণের সুদাসল রুবলে চায় রাশিয়া

পাকা বাড়ি পাচ্ছে আরও ১২৭ গৃহহীন পরিবার

Leave A Reply

Your email address will not be published.