ইভিএমে একজনের ভোট অন্য জনে দেওয়ার সুযোগ

আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতায় মক ভোটিংয়ের আয়োজন করে ইসি। এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে ইভিএম নিয়ে আলোচনাও হয়। 

এক গণমাধ্যমকর্মী প্রশ্ন করেন যে, ইভিএমে একজনের ভোট আরেকজন দেয়ার সুযোগ থেকে যাচ্ছে। যদি ভোটারের কাছ থেকে তার এনআইডি নম্বর ও আঙুলের ছাপ নেয়ার পর তাকে বের করে দেয়া হয়। এরপর ভোটার ছাড়াই তারা ভোট দেয়। গত নির্বাচনগুলোতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে সংবাদও হয়েছে।

জবাবে এক ইসি কর্মকর্তা বলেন, যে ঘটনার কথা আপনারা বলছেন, ভোটের শেষ ধাপ ব্যালটেও আঙুলের ছাপ রাখার জন্য। সেখানেও যদি কেউ পিস্তল ঠেকিয়ে বলে এখানে ফিঙ্গার দিয়ে যাও, তখন তো কিছু করার থাকবে না। এটা আসলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ইস্যু।

আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করে বলেন, আপনারা কন্ট্রোল ইউনিটে আঙুলের ছাপ রাখছেন। যদি ব্যালট ইউনিটেও আঙুলের ছাপ রাখতেন, তাহলে কিছুটা নিশ্চিত হত। এখন কী বলা যাচ্ছে শতভাগ নিশ্চিত কারচুপির সুযোগ নেই? এমন প্রশ্নে ইসি কর্মকর্তারা জানান, ব্যালট ইউনিটে আঙুলের ছাপ রাখার সুযোগ নেই। আর আইনশৃঙ্খলা বহিনীই পারবে শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে। 

ইসি ইভিএম প্রস্তুত করেছেন এমন এক বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান এক সাংবাদিক। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ইভিএমে এমন সফটওয়ার দেয়া যায়, ভোটার যেখানেই ভোট দেন না কেন, তা কাউন্ট হবে অন্য জায়গায়, যেহেতু প্রিন্ট কপি আসছে না। এই প্রোগ্রামিং করার সুযোগ আছে কি না?

জবাবে ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়, আমাদের এই ইভিএমে এই সুযোগ নাই। এই ইভিএম মেশিনের ভেতরে প্রোগ্রামিং করে দেয়া আছে। এই মেশিনগুলো অনেক আগেই প্রোগ্রাম সেট করে মাঠে দিয়ে দিই। কোন কেন্দ্রে ভোট বুথে কোন ইভিএম মেশিন যাবে, তাও আমরা জানি না।

ইসির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বলা হচ্ছে, ইভিএম নিয়ে যাদের অভিযোগ, তারা টেকনিশিয়ান নিয়ে এসে এগুলো পরীক্ষা করে যাক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইভিএম প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল মো. কামাল উদ্দিন, আইটি ইনচার্জ মেজর মো. মাজহারুল ইসলাম, আইটি সিস্টেম কনসালটেন্ট এ এইচ এম আবদুর রহিম খান ও সিস্টেম ম্যানেজার ফারজানা আখতার।

Loading...