আমিরের স্মৃতিতে ‘লগান’

বিনোদন ডেস্ক

ভারতীয় ছায়াছবিতে নতুন এক দরজা খুলে দিয়েছিল লগান। আশুতোষ গোয়ারিকরের কালজয়ী ছবিটি গতকাল ২০ বছর পেরিয়েছে। এ উপলক্ষে কয়েকজন বিনোদন সাংবাদিকের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল আড্ডায় বসেছিলেন নায়ক ও প্রযোজক আমির খান।

যাত্রা শুরু
প্রথমে লগান ছবির গল্প আশুতোষ আমাকে দুই মিনিটে শোনায়। আমার তখন একদম পছন্দ হয়নি। আমি তাকে ফিরিয়ে দিই। তিন মাসের মতো সে গায়েব হয়ে যায়। আশুতোষ আবার আমাকে বলল যে ছবির পুরো গল্পটা শোনাবে। আর তিন ঘণ্টা সময় লাগবে।

আমি রীতিমতো বিরক্তির সুরে বলি যে আমার তিন ঘণ্টা নষ্ট করবি, আর নিজেরও। কিন্তু আশু নাছোড়বান্দা। অবশেষে শুনলাম। চিত্রনাট্য শুনে আমি হতবাক হয়ে যাই। গল্প শুনতে শুনতে হাসছিলাম, কাঁদছিলাম। কিন্তু এত বড় ছবি কে প্রযোজনা করবে।

অনেকের দরজায় কড়া নাড়া হয়েছিল, কেউ এগিয়ে আসেনি। ছয় মাস পরপর মোট তিনবার চিত্রনাট্য শুনেছিলাম। এক রাতে ভাবলাম বিমল রায়, গুরু দত্ত, ভি শান্তারাম, কে আসিফ আমার জায়গায় থাকলে কী করতেন। তাঁরাই আমার হিরো। আর তাঁরাই আমাকে শক্তি দেন, প্রেরণা জোগান। ভেবেছিলাম, জীবনে প্রযোজনা করব না। কিন্তু আমার হিরোদের কথা ভেবে আমি প্রযোজনা করতে সাহস পাই।

আমি আশুকে বলি আমাকে চতুর্থবার চিত্রনাট্য শোনাতে। এই বর্ণনার সময় আমি আম্মি, আব্বুজান, আর রীনাকে (সাবেক স্ত্রী) ডাকি। আগে সব ন্যারেশন আমি একাই শুনেছি। তারাও চিত্রনাট্য শুনতে শুনতে আমার মতো আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিল। প্রায় দুই বছর লেগেছিল ছবিটা নিয়ে ‘হ্যাঁ’ বলতে। আর এখান থেকেই লগান–এর যাত্রা শুরু।

লগান–এর সফর থেকে আমি পল ব্ল্যাকথ্রন, রিচেল শেলির মতো ভালো বন্ধু পেয়েছি। পলের ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি দশাসই শরীর দেখে খলনায়কের মতো লাগত। কিন্তু আদপে পলের মতো দারুণ, ভদ্র ছেলে হয় না। অত্যন্ত হাসিখুশি, প্রাণবন্ত, মজার মানুষ। আমার সঙ্গে পলের দারুণ বন্ধুত্ব হয়ে যায়। আজও সেই বন্ধুত্ব অটুট আছে।
আমাদের প্রায়ই কথা হয়। একটা হলঘরে আমরা ৬০ জন একসঙ্গে বসে মেকআপ করতাম। পল রোজ সকালে ‘উইনি দ্য পু’ কার্টুনের সব চরিত্রের সংলাপ জোরে জোরে বলত।

লগান ছবির অত্যন্ত জনপ্রিয় গান ‘ঘানান ঘানান ঘানান’। গানটি লিখেছিলেন জাভেদ (আখতার) স্যার। গানটির দৃশ্য শুট করতে আশুতোষের (পরিচালক) অবস্থা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। কারণ, গানের শব্দগুলো বেশ জটিল। তার ওপর এই গানের দৃশ্যে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা কেউই পর্দায় এ ধরনের দৃশ্য আগে করেননি। আমরা নায়ক-নায়িকারা হামেশাই গানের দৃশ্য করে থাকি। তাই আমাদের কাছে কিছুটা সহজ। গানের দৃশ্যটি শুটিংয়ের প্রথম দিন সবাই ভুলভাল করছিলেন। তাই সেদিন শুটিং বানচাল হয়ে যায়। আমরা বাসায় ফিরে যাই। রাতে আশুতোষ সব অভিনয়শিল্পীকে ডেকে পাঠান। আর টেপ চালিয়ে সবাইকে গানটা মুখস্থ করতে বলেন।

আমরা দুই ঘণ্টা ধরে গলা ফাটিয়ে গান গাই। প্রত্যেককে নিজস্ব লাইন মুখস্থ করার কথা বলা হয়। পরের দিন সবাই বেতাল নাচ করলেও গানটা ঠিকঠাক গেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গানের দৃশ্যটা ভালোভাবে করতে পেরেছিলাম।

কচ্চের গ্রামবাসীরা চিন্তায় ছিল যে লগান ছবিটা কী করে দেখবে। কারণ, সেখানে কোনো সিনেমা হল ছিল না। আমরা কথা দিয়েছিলাম যে তাঁদের ছবিটা দেখাব। তাই এই ছবির প্রথম স্ক্রিনিং আমরা ভুজের একটি সিনেমা হল ভাড়া করে রেখেছিলাম। কোটা, কুনহরিয়ার সব গ্রামবাসীকে প্রথম আমরা ছবিটা দেখাই। আমরা সবাই একসঙ্গে বসে ছবিটা দেখেছিলাম। এরপরে মুম্বাইতে দেখানো হয়েছিল।

Loading...