আমিরাতের বিপক্ষে কষ্টের জয় আফিফ-মিরাজদের

শরীফুল ইসলামের করা শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১১ রান, দ্বিতীয় বলে কাভারে জুনাইদ সিদ্দিকের সহজ ক্যাচটি ফেললেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। পরের বলে অবশ্য ফিরলেন আয়ান খান, ১৭ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলে। পরের বলে ক্যাচ দিলেন জুনাইদ সিদ্দিকও। বাংলাদেশের করা ১৫৮ রান তাড়া করতে নেমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ২ বল বাকি থাকতে গুটিয়ে গেল ১৫১ রানে।

আফিফ হোসেনের দারুণ ব্যাটিংয়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে দারুণ নৈপুণ্যের পরও দুবাইয়ে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারাতে বেশ বেগই পেতে হলো বাংলাদেশকে।

 

রান তাড়ায় মাঝের ধস সামাল দিয়ে বেশ কাছাকাছি গিয়েছিল আরব আমিরাত। ইনিংসের প্রথম ভাগে ফিল্ডিং বেশ ভালো হলেও বাংলাদেশ খেই হারায় আবার। লিটন মিসফিল্ডে চার দেন, সাইফউদ্দিনের আগে ক্যাচ ছাড়েন মোসাদ্দেকও। আরব আমিরাত ব্যাটসম্যানরা অবশ্য সে সুযোগটা ঠিক কাজে লাগাতে পারেননি, তবে ১৬ বছর বয়সী আয়ানের সঙ্গে লড়াই করেছেন কার্তিক মিয়াপ্পন ও জুনাইদও।

আমিরাতের বিপক্ষে কষ্টের জয় আফিফ-মিরাজদের

রান তাড়ায় প্রথম উইকেট আরব আমিরাত হারায় দুর্ভাগ্যজনকভাব। শরীফুলের বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ খেলেছিলেন চিরাগ সুরি, নন স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্প ভাঙার আগে সেটি ছুঁয়ে যায় বোলারের হাত। সে সময় ক্রিজের বাইরেই ছিলেন আরব আমিরাতের সেরা ব্যাটসম্যান মুহাম্মদ ওয়াসিম। ওই উইকেট হারিয়ে পাওয়ারপ্লেতে স্বাগতিকেরা তোলে ৪৩ রান।

ওয়াসিমের উইকেট হারালেও আরিয়ান লাকরাকে নিয়ে এগোচ্ছিলেন সুরি। তাঁদের জুটি ভাঙেন মিরাজ, তাঁকে সামনে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হন ২৪ বলে ৩৯ রান করা সুরি। পরের ওভারে এসে লাকরাকেও ফেরান মিরাজ। আরব আমিরাতের পরের উইকেটেও ছিল মিরাজের অবদান। মোস্তাফিজের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে অধিনায়ক সিপি রিজওয়ানের ক্যাচটি মিরাজ নেন ডাইভ দিয়ে। ১৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে আরব আমিরাতের ছন্দপতন হয় ভালোভাবেই।

বাসিল হামিদ, ভৃত্য অরবিন্দ বা জাওয়ার ফরিদ—ইনিংস পুনর্গঠনের কাজটা করতে পারেননি কেউ। এর মধ্যে আছে দুটি দারুণ ফিল্ডিং। অরবিন্দের ফিরতি ক্যাচও বাঁ দিকে ডাইভ দিয়ে নেন মিরাজ আর ফরিদ রানআউট হন ডিপ স্কয়ার লেগ থেকে করা আফিফের সরাসরি থ্রোতে। ১৫তম ওভারে ফরিদ যখন আউট হন, আরব আমিরাতের রান ১০২। মানে ২৫ রানের মধ্যেই তারা হারায় ৫ উইকেট। আয়ানকে ঘিরে এরপরই লড়াই করে স্বাগতিকেরা।

এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ ১৫৮ পর্যন্ত যায় মূলত আফিফ হোসেনের ৫৫ বলে ৭৭ রানের ইনিংসের সঙ্গে অধিনায়ক নুরুল হাসানের ২৫ বলে ৩৫ রানের ইনিংসে। ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর দুজন মিলে ষষ্ঠ উইকেটে বাংলাদেশের রেকর্ড ৮১ রানের জুটি গড়ে অবিচ্ছিন্ন থাকেন।

আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা ওপেনিং জুটিতে আসেন সাব্বির রহমান ও মেহেদী হাসান মিরাজই। দ্বিতীয় ওভারে সাবির আলীর শর্ট বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে তুলে মারতে গিয়ে কোনো রান না করেই স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন সাব্বির। চোট কাটিয়ে ফেরা লিটন দাসের শুরুটা ইতিবাচক হলেও শর্ট লেংথের বলে জোরের ওপর সুইপ করতে গিয়ে আয়ানের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। শুরুতে বলের মুভমেন্টে অস্বস্তিতে পড়া মিরাজও বেশি দূর যেতে পারেননি, ১৪ বলে ১২ রান করে ফরিদের শর্ট বলে ক্যাচ তোলেন তিনি।

৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশের স্কোরকার্ডের চিত্রটা বাজে হতে পারত আরও। ২ রানে দাঁড়িয়েই জীবন পান আফিফ। সে সুযোগ কাজেও লাগান দারুণভাবে। পাওয়ারপ্লেতে ৪২ রান ওঠে, অবশ্য আফিফকে রেখে ইয়াসির আলী ও মোসাদ্দেক হোসেন ফেরেন দ্রুতই। চোট কাটিয়ে ফেরা ইয়াসির মিয়াপ্পনের গুগলির শিকার, মোসাদ্দেক একই বোলারের বলে হন স্টাম্পিং। পরে ৬৩ রানে দাঁড়িয়ে আফিফ জীবন পান আরেকটি, ১৫তম ওভারে নুরুলকে রানআউট করার সুযোগও হারায় আরব আমিরাত। ৫ উইকেটে ১০৫ রান নিয়ে ডেথ ওভার শুরু করা বাংলাদেশ শেষ ৫ ওভারে তোলে ৫৩ রান।

 

 

 

 

 

পাকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয় ইংল্যান্ডের

বিপিএলের মালিকানা পাচ্ছে যারা

Leave A Reply

Your email address will not be published.