Ultimate magazine theme for WordPress.

লাশ উপচে পড়ছে ইতালির মর্গে!

ইতালিতে করোনা ভাইরাসে দিন দিন বাড়ছেই মৃতের সংখ্যা। ইউরোপে করোনা ঝুঁকিতে থাকা মানুষের একটি বড় অংশ ইতালির। ফলে এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে দেশটিতে। গত একদিনেই দেশটিতে মারা গেছেন ৩৪৫ জন।

এ নিয়ে করোনায় দেশটিতে মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ২৫০৩ জনে। এ সংখ্যা চীনের বাইরে সবথেকে বেশি। দেশটির মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা উত্তরাঞ্চলের লম্বার্ডির। ইউরোপের করোনা ভাইরাস বিস্তারের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে শহরটি। সেখানে হাসপাতালের মর্গে আর লাশ রাখার জায়গা হচ্ছে না। সৎকারে সময় বেশি লাগায় মর্গে লাশ উপচে পড়ছে।

জানা গেছে, মৃতদের সৎকারেও কড়াকড়ি করছে ইতালি সরকার। ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য শেষ প্রার্থনায় অংশগ্রহণে কোনও নিকটজনকে অনুমতি দেয়া হচ্ছে না। সরকারি সৎকার কর্মীরাই এই কাজগুলো করছেন। ইতালির আরেক গ্রাম জোঙ্গোতে স্থানীয় পাদ্রিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, তারা দিনে একবার মৃত্যু ঘণ্টা বাজাবেন। কারণ করোনায় মৃত্যুর মিছিল বড় হতে থাকায় সারাদিনই ঘণ্টা বাজাতে হচ্ছিল।

ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের শেষ বিদায় দিতে পারছেন না স্বজনরা। হাসপাতালের আইসোলেটেড কক্ষে বন্ধু ও পরিবার ছাড়াই মারা যাচ্ছেন তারা। স্থানীয় গণমাধ্যমের সংবাদ থেকে অনেকেই সজনের মৃত্যুর খবর জানছেন।

স্থানীয় পত্রিকা লেকো দি বারগামো প্রতিদিন মৃতদের তালিকা প্রকাশ করে একটি পাতা বের করতো। কিন্তু করোনা ভয়াবহ রূপ ধারণ করার পর থেকে তাদের এ পাতার সংখ্যা বাড়তে থাকে। গত শুক্রবার তারা ১০ পাতায় মৃতদের তালিকা প্রকাশ করে।

এদিকে সৎকারে যারা কাজ করছেন তারাও আক্রান্ত হতে শুরু করেছেন করোনাতে। এতদিন মনে করা হতো মৃত্যুর পর মরদেহ থেকে এ ভাইরাস ছড়াতে পারে না।

ইতালির কাস্টিগলিওন ডাড্ডার মেয়র জানান, ২১ ফেব্রুয়ারির পর থেকে এই ছোট শহরে ৪৭ জন মারা গেছেন। যেখানে পুরো ২০১৯ সালে মারা গেছেন ৫০ জন।

উল্লেখ্য, চীনে করোনা ভাইরাস প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। কিন্তু চীনের বাইরে অন্যান্য দেশে ব্যাপক আকারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এতে বিশ্বব্যাপী প্রচণ্ড আতঙ্ক ও ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে ৮১৯ জনসহ মোট মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৯৮০ জনের। এর মধ্যে উৎপত্তিস্থল চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৩৭। চীনের বাইরে মারা গেছে ৪ হাজার ৭৪৩ জন।

এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৯ জন। এর মধ্যে ৮২ হাজার ৭৬৩ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৮৯৪। দেশটিতে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৯ হাজার ৬১৪ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৫৫ জন মানুষ।

বর্তমানে ১ লাখ ৭ হাজার ৬০৬ জন আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১ হাজার ১৯০ জনের অবস্থা সাধারণ (স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে) এবং বাকি ৬ হাজার ৪১৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আক্রান্তের অনুপাতে মৃত্যুর হার ৯ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৯১ শতাংশ।

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৬৫টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.