Ultimate magazine theme for WordPress.

থমথমে দিল্লিতে কাটেনি আতঙ্ক, বন্ধ রয়েছে স্কুল

দিল্লিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে শুরু হওয়া সংঘর্ষ থেকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ নেয়া সহিংসতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪২ জনে পৌঁছেছে। পুলিশের আশ্বাস, আধা সামরিক বাহিনীর টহল সত্ত্বেও উত্তর পূর্ব দিল্লির উপদ্রুত এলাকার মানুষ ঘরে ফিরতে চাইছে না। কারণ আতঙ্ক। মহল্লার পর মহল্লা বস্তুত জনশূন্য। সেখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৭ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জাফরাবাদ, গোকুলপুর, ব্রহ্মপুরী এলাকায় কিছু কিছু দোকান পুলিশি নিরাপত্তায় খোলা হয়েছে। কিন্তু খুলে লাভ কী? ক্রেতা নেই। যারা বেঁচে গিয়েছেন, তারা সকলেই এলাকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন দিল্লির অন্য এলাকায় আত্মীয়দের বাড়ি অথবা নিজের গ্রামে। এই ঘরছাড়া মানুষের আতঙ্ক এতটাই যে সরকার আশ্রয় শিবির চালু করলেও সেখানে থাকতে ভরসা পাচ্ছে না। সিংহভাগ শিবিরই শূন্য। বাজার ফাঁকা। রাস্তায় শুধুই ক্রেন আর পানির গাড়ি। ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছে ক্রেন। আর রক্ত সাফ করছে হোসপাইপ।

হাসপাতালের পাশে একটা সাদা কাপড় দিয়ে অস্থায়ী তাঁবু তৈরি করা হয়েছে। ওই জনপদগুলি এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত। তাঁদের স্বজন হারাতে হয়নি। কিন্তু তাই বলে নিরাপদ দূরত্বে থেকে যাননি তারা। অসহায়, নিরাশ্রয় যারা স্বজনের মৃতদেহের পোস্টমর্টেমের পরও নিয়ে যেতে পারছেন না, তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন হরজিৎ সিং, আরশাদ রহমানরা। স্বামী, বাবা, ভাই আর মায়ের মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার গাড়ি ভাড়া করার টাকা পর্যন্ত নেই ইব্রাহিম, সাগিনা, দীপেন্দরদের কাছে। সাদা কাপড়ের তাঁবুর সামনে লাইন পড়েছে। সেখানে এই মানুষগুলিকে দেওয়া হচ্ছে টাকা।

ইউনাইটেড শিখ অ্যাসোসিয়েশন ঘুরছে মহল্লায় মহল্লায়। এখনও ৪২ জনের মৃত্যু হলেও পোস্টমর্টেম বাকি ১৮ জনের। শুধু জিটিবি হাসপাতালেই পোস্টমর্টেম না হয়ে পড়ে রয়েছে ১৩টি মরদেহ। তার মধ্যে ৬টি অজ্ঞাতপরিচয়। পচন ধরছে মৃতদেহে। তার থেকেও বড় সঙ্কট অজ্ঞাতপরিচয় দেহগুলি নিয়ে। অগ্নিদগ্ধ দেহ চেনার উপায় কী? তাই ঠিক হয়েছে যাদের পরিজন এখনও নিখোঁজ, তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে ওই মৃতদেহগুলির সঙ্গে।

২২ বছরের ইব্রাহিম জানালেন, ভাইয়ের মৃতদেহ ভেবে ঢুকলাম মর্গে। আমার সঙ্গে যে নারী ঢুকলেন তারও ছেলে হারিয়েছে। যে মৃতদেহ দেখানো হল তার পরনে শুধু জিন্স। সেটা আমার ভাইয়ের নাকি ওই মহিলার ছেলের দেহ, কিছুই বোঝা গেল না। তাই পুলিশ বলছে ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। নাহলে জানা যাচ্ছে না নাম, পরিচয়। ততক্ষণ পর্যন্ত হতভাগ্য ৬ জন নিছক অজ্ঞাত মরদেহ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.