Ultimate magazine theme for WordPress.

করোনা ভাইরাস: দক্ষিণ কোরিয়ায় একদিনে আক্রান্ত ৮১৩

দক্ষিণ কোরিয়ায় একদিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১৩ জন। দেশটিতে এটাই এক দিনে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোট ৩ হাজার ১৫০ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যার দিক দিয়ে চীনের পরই দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান। খবর বিবিসি।

গত বছর ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাসটি। তবে অন্যান্য দেশেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালি।

শনিবার কোরিয়া রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা কেন্দ্র (কেসিডিসি) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হয়ে সেখানে মারা গেছেন ১৭ জন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় কোভিড-১৯–এ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনার বেশির ভাগই দায়েগু শহরের। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বের এই শহরকে এখন প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র বলা হচ্ছে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ভুক্ত শিনচেওনজি চার্চের অনুসারীদের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। মনে করা হচ্ছে, চার্চের আক্রান্ত সদস্যরা দায়েগুতে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পর ভাইরাসটি একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে শুরু করে এবং এখন দেশজুড়ে ছড়িয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ৬১ বছর বয়সী এক নারী প্রথম আক্রান্ত হন। তার গত সপ্তাহে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে।

শুরুতে ওই নারী পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যেতে অস্বীকৃতি জানান। জ্বর নিয়ে নিয়ে তিনি চার্চের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা যায়। শিনচেওনজি চার্চ করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাদের দায়ী করে নানা সমালোচনাকে অন্যায় বলে মন্তব্য করেছে।

এদিকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯৩৩ জন নিহত হয়েছে। শুধু চীনেই মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৮৩৫ জন। চীনের বাইরে নিহত হয়েছে ৯৮ জন। এর মধ্যে ইরানে ৪৩, ইটালিতে ২১, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৭, জাপান ৫, ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজে ৬, হংকং ও ফ্রান্স ২, ফিলিপাইন এবং তাইওয়ানে ১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছে ৫৭ জন।

এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৫ হাজার ৬৯১ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯ হাজার ২৫৭ জন এবং চীনের বাইরে ৬ হাজার ৪৩৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৭ হাজার ৮১৮ জনের অবস্থা আশঙ্কানক। এখন পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ৭৬৬ জন সুস্থ হয়েছে।

শনিবার সকালে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, চীনে নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৪৩৩ জন এবং মারা গেছে ৪৭ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৭৯ হাজার ২৫৭ জন এবং মারা গেছে ২ হাজার ৮৩৫ জন।

হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান, সেখানাকার একটি জীবন্ত প্রাণী বিক্রির বাজার থেকে ভাইরাসটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীন হুবেই প্রদেশকে পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ওই অঞ্চলের সাথে সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ আক্রান্তের খবর আসছে, তাতে আক্রান্তের আসল খবর জানা যাচ্ছে না।কারণ, ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, শুধু তাদের হিসেব পরিসংখ্যানে ধরা হচ্ছে।তাই এর প্রকৃত হিসেব বের করা বা জানা খুবই কঠিন ব্যাপার, যা আরেকটি আশঙ্কার কারণ।

চীনের সবগুলো প্রদেশসহ বিশ্বের ৬১টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। চীনের বাইরে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৩৪ জন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৩ হাজার ১৫৫ জন। যা চীনের বাইরে সর্বোচ্চ।

ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীন ভ্রমণে সতর্কতা, নিষেধাজ্ঞা জারি এবং কড়াকড়ি আরোপ করেছে অনেক দেশ।ভারত, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশ চীন থেকে আগত যাত্রীদের ভিসা বাতিল করেছে।ভাইরাসের কারণে, বিশ্বের অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।চীনে অধিকাংশ বিমান সংস্থার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্সসহ আরও অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের চীন থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।

এছাড়া, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে (কোভিড-১৯) চীনে ৮ স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চীনে ৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। রবিবার দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এ তথ্য জানিয়েছেন।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের সহকারী পরিচালক জেং ইজিন জানান, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এরইমধ্যে ৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৩ হাজার জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। যা ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্ত রোগীদের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে হুবেই প্রদেশে রয়েছে ২ হাজার ৫০২।

গত ডিসেম্বরে চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা।এখন পর্যন্ত চীনের বাইরে বিশ্বের ৬১টি দেশে ৬ হাজার ৪৩৪ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুধু চীনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯ হাজার ২৫৭ জন।

যেসব দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে-

চীন- ৭৯ হাজার ২৫৭ জন, দক্ষিণ কোরিয়া- ৩ হাজার ১৫০, ইটালি- ৮৮৯, ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজ- ৭০৫, ইরান- ৫৯৩, জাপান- ২৪১, সিঙ্গাপুর- ৯৮, হংকং- ৯৩, জার্মানি- ৭৯, যুক্তরাষ্ট্র- ৬৬, ফ্রান্স- ৫৭, কুয়েত- ৪৫, স্পেন- ৪৫, থাইল্যান্ড- ৪২, তাইওয়ান- ৩৯, বাহরাইন-৩৮, অস্ট্রেলিয়া- ২৫, মালয়েশিয়া- ২৫, যুক্তরাজ্য- ২০, আরব আমিরাত- ১৯, কানাডা- ১৬, ভিয়েতনাম- ১৬, সুইজারল্যান্ড- ১৫, সুইডেন- ১২, ম্যাকাও- ১০, অস্ট্রিয়া- ৯, ইরাক- ৮, ইজরাইল- ৭, নরওয়ে- ৭, ওমান- ৬, ক্রোয়েশিয়া-৫, গ্রীস- ৪, লেবানন- ৪, ফিলিপাইন- ৩, ডেনমার্ক- ৩, ফিনল্যান্ড- ৩, জর্জিয়া- ৩, ভারত- ৩, মেক্সিকো- ৩, রোমানিয়া- ৩, নেদারল্যান্ড- ২, পাকিস্তান- ২, রাশিয়া- ২, আফগানিস্তান-১, আলজেরিয়া- ১, আজারবাইজান- ১, বেলারুশ- ১, বেলজিয়াম- ১, ব্রাজিল- ১, কম্বোডিয়া- ১, মিশর- ১, এস্তোনিয়া- ১, আইসল্যান্ড- ১, লিথুনিয়া- ১, উত্তর ম্যাসেডোনিয়া- ১, মোনাকো- ১, নেপাল- ১, নিউজজিল্যান্ড- ১, নাইজেরিয়া- ১, কাতার- ১, সান ম্যারিনো- ১ ও শ্রীলঙ্কা- ১ জন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.