Ultimate magazine theme for WordPress.

করোনা ভাইরাস: ইরানে মৃত বেড়ে ৬

ইরানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৬ জনে দাঁড়িয়েছে। চীনের বাইরে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এছাড়া ইরানে আক্রান্ত হয়েছে ২৮ জন। রবিবার ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা আলিরেজা ভাহাবজাদেহ এ কথা জানিয়েছেন। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, এএফপি, আলজাজিরা।

তবে নতুন মারা যাওয়া দুইজনের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এদিকে করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে ইরানের মারকাজি প্রদেশে স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্কৃতি কেন্দ্রসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বুধবার ২ জন ও শুক্রবার ২ জন মারা যায়। দেশটির পবিত্র কোম শহরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা

ওই সময় ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা আলিরেজা ভাহাবজাদেহ আল জাজিরাকে বলেছেন, তেহরানের দক্ষিণে কোম শহরে করোনা ভাইরাসের কারণে দুই প্রবীণ ব্যক্তি মারা গেছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে দু’জনেই তীব্র ফুসফুসের সংক্রমণে ভুগছিলেন।

দুই বৃদ্ধ মারা যাওয়ার একদিন আগে অর্থাৎ মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কিয়ানুশু জাহানপুর বলেছিলেন যে প্রাথমিক ফলাফলে দু’জনের শরীরে ভাইরাস ধরা পড়েছে। এর একদিন পরই ইমিউনজনিত ঘাটতি এবং বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেছেন তারা।

অন্যদিকে করোনা ভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৪৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া চীনের বাইরে ইরানে ৬, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪, জাপান ৩, হংকং ও ইটালিতে ২, ফিলিপাইন, তাইওয়ান ও ফ্রান্স ১ জন করে মোট ২ হাজার ৪৬২ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছে ৯৭ জন

এ ভাইরাসে চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬ হাজার ৯৩৬ জন এবং চীনের বাইরে ১ হাজার ৭৮৮ জন। সবমিলিয়ে পুরো বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৭২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৯২ জন সুস্থ হয়েছে।

রবিবার সকালে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, চীনে নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ৬৪৮ জন এবং মারা গেছে ৯৭ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ৭৬ হাজার ৯৩৬ জন এবং মারা গেছে ২ হাজার ৪৪২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ১১ হাজার ২০০ এর বেশি মানুষের অবস্থা আশঙ্কানক। এছাড়া চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।

হুবেই প্রদেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হুবেইতে নতুন করে ৬৩০ আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে প্রদেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে ৬৪ হাজার ৮৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হুবেইতে ৯৬ জন মারা গেছে। এ নিয়ে প্রদেশটিতে নিহত হয়েছে ২ হাজার ৩৪৬ জন। এছাড়া ১ হাজার ৭৪২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে।

হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান, সেখানাকার একটি সামুদ্রিক খাদ্য ও মাংসের বাজার থেকে এই করোনা ভাইরাসটির উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।ভাইরাসটি যাতে ছড়িয়ে না যায়, সেজন্য চীন হুবেই প্রদেশকে পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।ওই অঞ্চলের সাথে সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে চীনসহ বাইরের বিশ্ব থেকে।

রবিবার দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত ২৩ হাজার ৯২ জন সুস্থ হয়েছে এবং তারা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার ছাড়পত্র পেয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ আক্রান্তের খবর আসছে, তাতে আক্রান্তের আসল খবর জানা যাচ্ছে না।কারণ, ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে, শুধু তাদের হিসেব পরিসংখ্যানে ধরা হচ্ছে।তাই এর প্রকৃত হিসেব বের করা বা জানা খুবই কঠিন ব্যাপার, যা আরেকটি আশঙ্কার কারণ।

চীনের সবগুলো প্রদেশসহ বিশ্বের ৩২টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। চীনের বাইরে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৮৮ জন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে জাপানে ৭৫১ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ৫৫৬ জন।

ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চীন ভ্রমণে সতর্কতা, নিষেধাজ্ঞা জারি এবং কড়াকড়ি আরোপ করেছে অনেক দেশ।ভারত, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশ চীন থেকে আগত যাত্রীদের ভিসা বাতিল করেছে।ভাইরাসের কারণে, বিশ্বের অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের চীন ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।চীনে অধিকাংশ বিমান সংস্থার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্সসহ আরও অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের চীন থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।

এছাড়া, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে (কোভিড-১৯) চীনে ৬ স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চীনে ৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। রবিবার দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন এ তথ্য জানিয়েছেন।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের সহকারী পরিচালক জেং ইজিন জানান, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে এরইমধ্যে ৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া ৩ হাজার জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। যা ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্ত রোগীদের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। এর মধ্যে হুবেই প্রদেশে রয়েছে ২ হাজার ৫০২।

চীনের বাইরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি দক্ষিণ কোরিয়ায়। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৫৫৬ জনের শরীরে ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নতুন করে গত একদিনে ১৩৩ জন আক্রান্ত এবং ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।

রবিবার পর্যন্ত আক্রান্ত ৫৫৬ জনের মধ্যে ৫০৮ জনই দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দায়েগু শহরের শিনচেওঞ্জি সম্প্রদায়ের সদস্য। এছাড়া নতুন আক্রান্ত ১৩৩ জনের মধ্যে ৭৫ জনই তাদের সম্প্রদায়ের। রবিবার সরকার শিনচেওঞ্জি ধর্মীয় গোষ্ঠীর নয় হাজারেরও বেশি সদস্যকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঘরের মধ্যে থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার দেগু এবং চোংডো শহরকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হিসাবে ধরা হচ্ছে। এই ২ শহরের আশপাশের এলাকাগুলোতে বিশেষ জরুরি ব্যবস্থা জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এই দুই শহরের লোকজনকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

গত ডিসেম্বরে চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা।এখন পর্যন্ত চীনের বাইরে বিশ্বের ৩২টি দেশে ১ হাজার ৭৮৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুধু চীনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬ হাজার ২৮৮ জন।

যেসব দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে-

চীন- ৭৬ হাজার ৯৩৬ জন, জাপান- ৭৫১ জন, দক্ষিণ কোরিয়া- ৫৫৬ জন, সিঙ্গাপুর- ৮৯ জন, হংকং- ৭০ জন, ইটালি- ৫১ জন, থাইল্যান্ড- ৩৫ জন, যুক্তরাষ্ট্র- ৩৫ জন, ইরান- ২৮, তাইওয়ান- ২৬ জন, অস্ট্রেলিয়া- ২৩ জন, মালয়েশিয়া- ২২ জন, জার্মানি- ১৬ জন, ভিয়েতনাম- ১৬ জন, ফ্রান্স- ১২ জন, আরব আমিরাত- ১১ জন, ম্যাকাও- ১০ জন, কানাডা- ৯ জন, যুক্তরাজ্য- ৯ জন, ফিলিপাইন- ৩ জন, ভারত- ৩ জন, রাশিয়া- ২ জন, স্পেন- ২ জন, বেলজিয়াম- ১ জন, কম্বোডিয়া- ১ জন, মিশর- ১ জন, ফিনল্যান্ড- ১ জন, ইজরাইল- ১ জন, লেবানন- ১ জন, নেপাল- ১ জন, শ্রীলঙ্কা- ১ জন, সুইডেন- ১ জন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.