Ultimate magazine theme for WordPress.

করোনায় ‍যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু বেড়ে ৩৪৮

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন ৮৮ জনসহ দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪৪ জন। নতুন করে ৭ হাজার ৪০১ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৮৫৯ জন। এছাড়া দেশটিতে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭৮ জন।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে ২৬ হাজার ৩৩৩ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬ হাজার ২৫৯ জনের অবস্থা সাধারণ (স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে) এবং বাকি ৬৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আক্রান্তের অনুপাতে মৃত্যুর হার ৬৬ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৩৪ শতাংশ।

দেশটিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত নিউইয়র্কে এবং মৃত্যু রাজধানী ওয়াশিংটনে। এই অবস্থায় নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সেখানে ফার্মেসি, খাবার দোকান ও জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া আরো অনেক রাজ্যে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া করোনা ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ হাজার ১২৮ জনসহ মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৭ হাজার ৭২৫ জন। এর মধ্যে ৯৫ হাজার ৭৯৭ জন সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৫৪ জন। এছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৭১ জন।

এ ভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে ১ হাজার ৬৬৭ জনসহ মৃত্যু হয়েছে ১৩ হাজার ৫৪ জনের। এর মধ্যে চীনে মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৬১। চীনের বাইরে মারা গেছে ৯ হাজার ৭৯৩ জন।

বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮৭৪ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৪ জনের অবস্থা সাধারণ (স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে) এবং বাকি ৯ হাজার ৩০০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আক্রান্তের অনুপাতে মৃত্যুর হার ১২ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৮৮ শতাংশ।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৬ জনসহ মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩ হাজার ২৬১ জন। নতুন ৪৬ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮১ হাজার ৫৪ জন। এছাড়া চীনে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭২ হাজার ৪৪০ জন।

চীনে বর্তমানে ৫ হাজার ৩৫৩ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৫০৮ জনের অবস্থা সাধারণ (স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে) এবং বাকি ১ হাজার ৮৪৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আক্রান্তের অনুপাতে মৃত্যুর হার ৪ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৯৬ শতাংশ।

এছাড়া ইতালির জাতীয় নাগরিক সুরক্ষা প্রধান আঞ্জেলো বোরেল্লি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন ৭৯৩ জনসহ দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ৮২৫ জন। নতুন করে ৬ হাজার ৫৫৭ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৫৭৮ জন। এছাড়া দেশটিতে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৭২ জন।

ইতালিতে বর্তমানে ৪২ হাজার ৬৮১ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৮২৪ জনের অবস্থা সাধারণ (স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে) এবং বাকি ২ হাজার ৮৫৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আক্রান্তের অনুপাতে মৃত্যুর হার ৪৪ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৫৬ শতাংশ।

এর ফলে পুরো দেশের জনগণ আতংকিত। সীমিত করা হয়েছে আগের চলাচল একই সঙ্গে সরকার বৃদ্ধি করেছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এরইমধ্যে আরও সীমিত করা হয় পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা।

ইউরোপিয় ইউনিয়নে ইতালির পর করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে স্পেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন ২৮৫ জনসহ মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৮ জন। নতুন করে ৩ হাজার ৯২৫ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৪৯৬ জন। এছাড়া দেশটিতে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ১২৫ জন। দেশটির জাতীয় নাগরিক সুরক্ষা প্রধান এসব তথ্য জানান।

স্পেনে বর্তমানে ২১ হাজার ৯৯৩ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ হাজার ৩৮১ জনের অবস্থা সাধারণ (স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে) এবং বাকি ১ হাজার ৬১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আক্রান্তের অনুপাতে মৃত্যুর হার ৩৯ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৬১ শতাংশ।

ইউরোপে ইতালি ও স্পেনের পর করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে ফ্রান্স। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন ১১২ জনসহ মৃত্যুর সংখ্যা ৫৬২ জন। নতুন করে ১ হাজার ৮৪৭ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪৫৯ জন। এছাড়া দেশটিতে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৫৮৭ জন। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে।

ফ্রান্সে বর্তমানে ১২ হাজার ৩১০ জন আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৭৮৫ জনের অবস্থা সাধারণ (স্থিতিশীল অথবা উন্নতির দিকে) এবং বাকি ১ হাজার ৫২৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদের মধ্যে ৫২৫ জনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যাদের অর্ধেকেরই বয়স ৬০ বছরের কম। আক্রান্তের অনুপাতে মৃত্যুর হার ২৬ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৭৪ শতাংশ।

এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ড. টেড্রস আধানম গেব্রেইয়সুস অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারগুলো এই বৈশ্বিক মহামারি ঠেকাতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি সরকারগুলোকে নিজ নিজ দেশের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।

করোনা ভাইরাস পৃথিবীজুড়ে অদ্ভুত এক আঁধারের ছায়া নিয়ে এসেছে। চারিদিক নিরব, নিস্তব্ধ। কেউ কারও সাথে মিশছে না বা চাইছে না। যেন সবাই সবাইকে এড়িয়ে যেতে পারলেই বাঁচে। ‘বিশ্ব গ্রাম’ ধারণায় মানুষ অনেক বছর ধরেই একাকি জীবনের অভ্যস্ত হয়ে উঠছিল। কিন্তু এতটা একাকি হয়তো তারা কখনোই হয়নি। যে চাইলেও তারা একে অন্যের সাথে দেখা করতে পারবে না। সবাই যেন এক যুদ্ধ কেন্দ্রীক জরুরি অবস্থায় রয়েছে।

এক করোনা ভাইরাস পুরো বিশ্বকেই যেন স্তব্ধ করে দিয়েছে। অধিকাংশ দেশেই রাস্তা-ঘাট, অফিস-আদালত, শপিংমল-মার্কেট, রেস্তোরাঁ-বার ফাঁকা। যেন সব ভূতুড়ে নগরী, যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা চলছে। সবার মধ্যে ভয়, আতঙ্ক আর আশঙ্কা।

উহান, চীনের শিল্পোন্নত এই শহর থেকেই প্রথম করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভাইরাসটি প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসলেও চীনের বাইরে ব্যাপক হারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।

চীনে উদ্ভূত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৮টি দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.