Ultimate magazine theme for WordPress.

ওআইসিতে কাশ্মির নিয়ে পাকিস্তানের প্রস্তাবে সৌদি’র প্রত্যাখ্যান

দেশভাগের পর থেকেই ভারত শাসিত কাশ্মিরের জনগণ নির্যাতিত। সম্প্রতি এই অবস্থার আরও অবনতি ঘটেছে। নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী সরকার কাশ্মিরীদের বিশেষ কিছু সাংবিধানক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। হাজার হাজার কাশ্মিরকে কারাগারে আটকে রেখেছে। গোটা রাজ্যটিই যেন কারাগারে পরিণত করে রেখেছে ভারত।

ভারতের এই কার্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বরাবরই সোচ্চার পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী এই ইস্যুতে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনে আলোচনার প্রস্তাব রেখেছিল। কিন্তু আয়োজক দেশ সৌদি আরব তার প্রত্যাখ্যান করেছে।

পাকিস্তানের দৈনিক ডনের প্রকাশিত খবর বলা হয়, ইসলামাবাদে এ সম্মেলন হতে যাচ্ছে না বুঝতে পেরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কিছুটা হতাশ। সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরকালে কাশ্মীর সংকট নিয়ে ওআইসির নীরব ভূমিকা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘আমাদের আসলে কথা বলার ক্ষমতা কমে গেছে। আমাদের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। এ কারণে, কাশ্মীর সংকট নিয়ে ওআইসির সদস্যরাষ্ট্রগুলো এক সঙ্গে বসতে পারছে না।’

গত বছর আগস্টে ভারত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে আলোচনার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের দাবি, কাশ্মীর সংকট নিয়ে মুসলিম বিশ্বের স্পষ্ট বক্তব্য উপস্থাপন করার জন্যই সম্মেলনটা প্রয়োজন। ওআইসির এ ধরনের সম্মেলন আয়োজনে সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সমর্থন আবশ্যক। কিন্তু, সৌদি সরকার কৌশলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনকে এড়িয়ে গেছে।

তারা বরং অন্য কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছিলো। যেমন, পার্লামেন্টারি ফোরামের বৈঠক কিংবা, মুসলিম দেশগুলোর পার্লামেন্টের স্পিকারদের বৈঠক কিংবা কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে যৌথ বৈঠক। কিন্তু, পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন নিয়ে পাকিস্তান বরাবর অনড়।

সৌদি আরবের চাপে মুসলিম দেশগুলোর কুয়ালালামপুর সম্মেলনে পাকিস্তান যোগ না দেওয়ায় সৌদি সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে কিছুটা নমনীয় আচরণ করে। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানায় মালয়েশিয়া সম্মেলনে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য। কিন্তু, এ নমনীয়তা বেশি দিন টিকেনি। পাকিস্তান আশা করে সৌদি সরকার কাশ্মীর সংকট নিয়ে ইসলামী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের প্রস্তাবে আগ্রহ দেখাবে।

কাশ্মির ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ব্যাপারে সৌদির আগ্রহ আবার কমে গেছে। এ ব্যাপারে কোনো কথাই তারা আর বলেনি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.