আত্মীয়ের হাতে শিশু ধর্ষণের পর হত্যার ভয়াবহ চিত্র

রংপুরের মিঠাপুকুরে শিশু রহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মামলার আসামি রাজা মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফরিদপুরের নগরকান্দা থানা এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ব্লেড, কোদাল, বটি ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাজা মিয়া স্বীকার করেছেন যে, ধর্ষণের সময় চিৎকার করায় শিশুটিকে শ্বাসরোধে এবং ব্লেড দিয়ে গলাকেটে হত্যা করেন।

নিহত শিশু রহিমা খাতুন মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের বুজরুক সন্তোষপুর গাছুয়াপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে এবং বুজরুক সন্তোষপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

 

পুলিশ জানায়, গত ২৬ মে শিশুটির নানাবাড়ির এক আত্মীয় মারা যায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা দাফন কাজে সেখানে যায়। শিশু রহিমা ও তার মা বাড়িতে ছিল। শিশুটির রাজা মিয়া (২৫) ছোটবেলা থেকে নানার বাড়িতে নানি হালিমার সঙ্গে বসবাস করেন।

শিশুটির আত্মীয় রাজা মিয়া ঘরে ডেকে এনে তাকে ধর্ষণ ও হত্যা করেন। তখন চিৎকার করায় হত্যার পর লাশ ঘরের মেঝে খুঁড়ে পুঁতে রাখে রাজা মিয়া।

রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার রাজা মিয়া জানিয়েছেন, ওই দিন দুপুরে মায়ের কাছে ১০ টাকা নিয়ে রহিমা দোকানে চিপস কিনে বাড়ি ফিরছিল। পথে রাজা মিয়া তাকে ১০ টাকা দিয়ে আরও একটি চিপস কিনে আনতে বলেন। চিপস কিনে রাজার ঘরে দিতে যায় রহিমা। এরপর রাজা ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই সময় শিশুটি চিৎকার দিলে রাজা তার গলা টিপে ধরেন। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় শিশুটির। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ব্লেড দিয়ে রহিমার গলা কাটে রাজা। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি কোদাল ও বটি দিয়ে ঘরের মধ্যে গর্ত করে, লাশ গর্তের মধ্যে পুঁতে ফেলেন। গর্ত পানি দিয়ে লেপে তার ওপর ধানের বস্তা রেখে দেন। এরপর তিনি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল পাশের বাড়িতে, বটি বেডের নিচে এবং রক্ত মোছার কাজে ব্যবহৃত কাঁথা ও লঙ্গি পুকুরে পুঁতে রাখেন। এরপর তিনি হত্যাকাণ্ড আড়াল করার জন্য সবার সঙ্গে শিশু রহিমাকে খুঁজতে থাকেন। ওইদিন রাত সাড়ে ১১ টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরদিন সকাল ৮টায় তার ঘরের মেঝে খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ঘটনার দিনই হত্যাকারী রাজার নানী হালিমাকে গ্রেফতর করেন।

Loading...