অভিনয়ের মহারাজা অভিনেতা সৌমিত্র চলে যাওয়ার আজ প্রায় ১ বছর

অভিনয়ের মহারাজা অভিনেতা সৌমিত্র চলে যাওয়ার আজ প্রায় ১ বছর

বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা। কবিতা চর্চা, রবীন্দ্রপাঠ, সম্পাদনা, নাট্য সংগঠন তার বিপুল বৈচিত্র্যের একেকটি দিক। একসঙ্গে অনেক কিছু নিয়েই তিনি ছিলেন অনন্য।

 

তিনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। ৮৬ বছর বয়সে গত বছর থেমে গেলেন তিনি। তাকে ঘিরে চারপাশের প্রিয় মানুষেরা শতবর্ষ জন্মদিন পালনের যে ইচ্ছেটা পুষে রেখেছিলেন, সেটা আর পূর্ণতা পায়নি।

 

দেখতে দেখতে এক বছর হয়ে গেল কলকাতার সিনেমায় কারও প্রিয় সৌমিত্রবাবু, কারও প্রিয় সৌমিত্র জেঠু আর নেই। নেই কোটি বাঙালির মন জয় করা নায়ক ও অভিনেতা।

গত বছরের ১৫ নভেম্বর তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

১৯৩৫-এর ১৯ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। বাবা ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী। জীবনের প্রথম ১০টা বছর সৌমিত্র কাটিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরে। তার দাদার নাটকের দল ছিল।

 

বাড়িতে নাট্যচর্চার পরিবেশ ছিল। ছোটবেলা থেকেই নাটকে অভিনয় শুরু করেন তিনি। কলকাতার সিটি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে সৌমিত্র ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেন।

কলেজের ফাইনাল ইয়ারে হঠাৎ একদিন মঞ্চে শিশির ভাদুড়ীর নাটক দেখার সুযোগ হয় তার। সেদিনই জীবনের মোড় ঘুরে যায়। তিনি পুরোদস্তুর নাটকে মনোনিবেশ করেন।

 

বাড়িতে নাট্যচর্চার পরিবেশ ছিল। ছোটবেলা থেকেই নাটকে অভিনয় শুরু করেন তিনি। কলকাতার সিটি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে সৌমিত্র ভর্তি হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেন।

কলেজের ফাইনাল ইয়ারে হঠাৎ একদিন মঞ্চে শিশির ভাদুড়ীর নাটক দেখার সুযোগ হয় তার। সেদিনই জীবনের মোড় ঘুরে যায়। তিনি পুরোদস্তুর নাটকে মনোনিবেশ করেন।

 

শিশির ভাদুড়ীকে গুরু মানতেন সৌমিত্র। নিজেই বলেছেন, অদ্ভুত এক বন্ধুত্ব ছিল তাদের। সব রকম আলোচনা হতো দুজনের।

বাংলা সিনেমা জগতের আরেক কিংবদন্তি ছবি বিশ্বাসের সঙ্গে সৌমিত্রকে পরিচয় করিয়ে দেন সত্যজিৎ রায়। তখনই সিনেমার জগতে হাতেখড়ি সৌমিক্রের। ‘অপুর সংসার’-এ অপু হন তিনি, যা তাকে কালজয়ী এক অভিনেতায় পরিণত করেছে।

সত্যজিতের প্রায় ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র। একমাত্র অভিনেতা তিনিই, যার সৌভাগ্য হয়েছে সৌমিত্রের এতগুলো সিনেমায় অভিনয়ের। সত্যজিতের সৃষ্টি ‘ফেলুদা’কেও বড় পর্দায় জীবন্ত করেছিলেন তিনিই।

দীর্ঘ ৬০ বছরের ক্যারিয়ারে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় সত্যজিত রায় ছাড়াও মৃণাল সেন, তপন সিংহসহ বহু নামি পরিচালকের প্রায় দুশ’র মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তার খুবই জনপ্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে আছে- মৃণাল সেনের ‘আকাশ-কুসুম’, তপন সিংহের ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘ঝিন্দের বন্দী’, অজয় করের ‘অতল জলের আহ্বান’, ‘সাত পাকে বাঁধা’, ‘পরিণীতা’, আশুতোষ বন্দোপাধ্যায়ের ‘তিন ভুবনের পারে’।

আরও আছে ‘অশনিসংকেত’, ‘সোনার কেল্লা’, ‘দেবদাস’, ‘নৌকাডুবি’, ‘গণদেবতা’, ‘হীরক রাজার দেশে’, ‘আতঙ্ক’, ‘গণশত্রু’, ‘তিন কন্যা’, ‘আগুন’, ‘শাস্তি’, ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’।

অনেক ছবিতে একসাথে অভিনয় করেছেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক উত্তম কুমার এবং সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। একসাথে তাদের পর্দায় দেখা যাক বা না যাক বাঙালি সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে চরম বিভক্তি ছিল তাদের প্রিয় নায়ক কে তা নিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের সিনেমাভক্তদের একদল মনে করত ‘জনতার মহানায়ক’ একজনই – তিনি উত্তম কুমার। আর বুদ্ধিজীবী মননের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে সেরা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

তার নায়িকা হয়ে অভিনয় করেছেন সুচিত্রা সেন, সুপ্রিয়া দেবী, শর্মিলা ঠাকুর, মাধবী মুখার্জী, অপর্ণা, তনুজাসহ তার সমসাময়িক প্রায় সবাই।

মঞ্চ নাটকেও তার পদচারণা ছিল দুর্দান্ত। নাটক লিখেছেন, অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশেও মঞ্চ মাতিয়ে গেছেন তিনি। একজন কবি ও কবিতা আবৃত্তি শিল্পী হিসেবেও ছিলেন নন্দিত।

অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন সৌমিত্র। ২০০৪ সালে তাকে পদ্মভূষণে সম্মানিত করা হয়। এছাড়া জাতীয় পুরস্কার, দাদাসাহেব ফালকেসহ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

১৯৬০ সালে সৌমিত্র বিয়ে করেন দীপা চট্টোপাধ্যায়কে। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে পৌলমী চট্টোপাধ্যায়ও সংস্কৃতি চর্চার সঙ্গে যুক্ত ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.