Ultimate magazine theme for WordPress.

মিন্নির জামিন বাতিল আবেদনের আদেশ আজ

বহুল আলোচিত বরগুনায় রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী মামলার আসামি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। শত ভঙ্গ করে রিফাত হত্যা মামলার দুই আসামিকে ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে তার জামিন বাতিলের আর্জি জানানো হয়েছে।

গতকাল বুধবার বরগুনার জেলা দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি ভুবন চন্দ্র হাওলাদার এ জামিন বাতিলের আবেদন করেন। এ বিষয়ে আজ আদেশ দেবেন আদালত।

তিনি বলেন, ‘গত ৪ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী জাকারিয়া বাবু ও মো. হারুনের বাড়িতে তিনটি মোটরসাইকেলে ৫ জন যুবককে নিয়ে সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন মিন্নি। ওই দুই সাক্ষীর বাড়িতে গিয়ে মিন্নি তাদের বলেছেন, সাক্ষ্য দিলে তাদের পরিণতিও রিফাতের মতোই হবে।’

এমতাবস্থায় মিন্নি কারাগারের বাইরে থাকলে মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত হতে পারে কারণেই তার জামিন বাতিল করার আবেদন করা হয়েছে।

এর আগে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মিন্নিসহ প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে গত ১ জানুয়ারি অভিযোগ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামানের আদালত। একইসঙ্গে মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৮ জানুয়ারি দিন ঠিক করেন।

তবে মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদনে উল্লেখ করা অভিযোগকেহ ‘হাস্যকর ও কাল্পনিক গল্পের মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন তার আইনজীবী মাহবুবুল বারি আসলাম।

গেল বছরের ১ সেপ্টেম্বর রিফাত হত্যা মামলায় তার স্ত্রী মিন্নিসহ ২৪ আসামির বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। পাশাপাশি মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ায় তাকে চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

গেল বছরের ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিন্নিকে নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে ফেরার পথে প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা করে নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজীসহ একদল যুবক।

ঘটনায় পরদিন রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলা করেন। মিন্নি সেই মামলার এক নম্বর সাক্ষী থাকলেও পুলিশ গত ১৬ জুলাই রাতে মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায়।

ওই হত্যাকাণ্ডের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। ভিডিওটিতে সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী তাকে (রিফাত শরীফ) ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে দেখা যায়।

এরপর গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন নয়ন বন্ড। পরে রিফাত ফরাজীকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার প্রধান সাক্ষী মিন্নিকে ১৬ জুলাই গ্রেফতার দেখনোর পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠান। ১৯ জুলাই রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষে মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হলে সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানায় পুলিশ।

ঠিক তার আগের দিন অর্থাৎ ১৮ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘মিন্নি হত্যাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং হত্যা পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে মিন্নির যুক্ত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।’

তবে মিন্নির পরিবারের দাবি, ‘নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে’ মিন্নিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে পুলিশ। এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের হাত আছে বলেও দাবি করেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

গেল বছরের ২৯ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি এম এনায়তুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ শতসাপেক্ষে মিন্নিকে জামিন দেন। মিন্নি ছাড়াও মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি প্রিন্স মোল্লাও জামিনে রয়েছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.