Ultimate magazine theme for WordPress.

প্রকাশের অপেক্ষায় দেশের সর্ববৃহৎ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়

প্রায় ১১ বছর আগে বহুল আলোচিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড মামলায় ২ বছর আগে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের অনুলিপি আজ মঙ্গলবার অথবা আগামীকাল বুধবার প্রকাশ হতে পারে। প্রায় ৩ হাজার পৃষ্ঠার এ রায় লিখা ও কপি প্রিন্টের কাজও শেষ বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। আসামির সংখ্যার দিক থেকে এটি শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হত্যা মামলা। এখন বিচারপতিদের স্বাক্ষর শেষেই প্রকাশ করা হবে রায়ের অনুলিপি। 

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোহের নামে পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর (বিজিবি) সদর দফতরে নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় ৮৫০ বিডিআর জওয়ানকে আসামি করা হয়। এদের মধ্যে  বিচারকাজ চলাকালে বিভিন্ন সময় ৪ জনের মৃত্যু হয়।

নারকীয় এ হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান (বর্তমানে হাইকোর্টের বিচারপতি)। নিম্ন আদালতের রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই ছিলেন তৎকালীন বিডিআর সদস্য। এছাড়া রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় ১৬১ জনকে, সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা হয় ২৫৬ জনের। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস পান ২৭৮ জন। রায়ে মোট সাজা হয় ৫৬৮ আসামির।

পিলখানা হত্যার ঘটনায় ২০০৯ সালের ৪ মার্চ রাজধানীর লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নবজ্যোতি খীসা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরে ৭ এপ্রিল স্থানান্তর করা হয় নিউজমার্কেট থানায়। মামলায় পিলখানা হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) তৌহিদুল আলমসহ ৬ জন আসামি করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও প্রায় ১ হাজার জনকে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইসি)  তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেয়। হত্যা মামলায় ৮২৪ ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে ৮০১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। 

পরে নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসির আসামিদের সাজা অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয়। আপিল করেন কারাবন্দি আসামিরাও। রাষ্ট্রপক্ষ থেকেও আপিল করা হয়। 

২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেন, বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর বেঞ্চ উভয়পক্ষের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি করে রায় দেন।

রায়ে নিম্ন আদালতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ আসামির মধ্যে ১৩৯ আসামির ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে হাইকোর্ট। এর মধ্যে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ৮ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও ৪ জনকে খালাস দেয়া হয়। নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন পাওয়া ১৬১ জনের মধ্যে হাইকোর্ট ১৪৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখে। বিডিআরের বাইরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির সাবেক সাংসদ নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলী। ২০১৫ সালের কারাগারে মারা যান পিন্টু। তবে আওয়ামী লীগ নেতা তোরাব আলীসহ খালাস পান ১২ জন যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি। আর নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া মোট ২৭৮ জনের মধ্যে ৩৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি নিম্ন আদালতে ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পাওয়া ২৫৬ আসামির মধ্যে হাইকোর্ট ২০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন। 

Leave A Reply

Your email address will not be published.