Wed. Dec 11th, 2019

বছরের শুরুতেই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

আবারও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। আগামী বছরে ৪২৮ কোটি টাকা রাজস্ব চাহিদা পূরণে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি-ডিপিডিসি। ফলে আগামী জানুয়ারীতেই গ্রাহক পর্যায়ে বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম।

রবিবার (২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আয়োজিত মূল্যহার পরিবর্তন নিয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনে গণশুনানিতে এই প্রস্তাব দেয় সংস্থাটি। একইসঙ্গে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়লে খুচরা পর্যায়েও সেই মূল্য সমন্বয় করার দাবি জানানো হয় ডিপিডিসির পক্ষ থেকে।

শুনানিতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ২৩ দশমিক ২৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে বিআরইসি’র কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি মনে করছে, পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ানো প্রয়োজন।

এর আগে শুনানিতে পিডিবির জিএম (বাণিজ্যিক কার্যক্রম) কাউসার আমীর আলী বলেন, ‘২০১৮-১৯ অর্থবছরে পাইকারিতে বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যয় ছিল ৫ টাকা ৮৩ পয়সা। এখন বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ৪ টাকা ৭৭ পয়সা। এর ফলে গত অর্থবছরে ৬ হাজার ৮৬২ কোটি ৩০ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। ২০২০ সালের গড় সরবরাহ ব্যয় হবে ৫ টাকা ৮৮ পয়সা হবে। কিন্তু বর্তমান মূল্য বজায় থাকলে এ বছর ঘাটতি হবে ৮ হাজার ৫৬০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ ঘাটতি পোষাতে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য এক টাকা ১১ পয়সা বাড়ানো প্রয়োজন।’

আজকে (১ ডিসেম্বর) ওই প্রস্তাবের সূত্র ধরে পাইকারির আনুপাতিক হারে খুচরা দাম বাড়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি পিডিবি খুচরা গ্রাহকদের জন্য ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎ বিতরণের মাশুল ২১ শতাংশ বাড়াতে বলেছে।

ক্যাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, ‘কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রয়োজন না থাকলেও সেগুলোকে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এই কারণেই পিডিবির ঘাটতি বাড়ছে। এ ধরনের কাজের দায়ভার চাপানো হচ্ছে জনগণের ওপর।’

শুনানিতে দলের পক্ষে অংশ নেন যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক যুবদলের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ ২০১৮ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানোর শুনানিতে কমিশন বলেছিল গ্যাসের দাম বাড়লেও বিদ্যুতের দাম বাড়বে না। তাহলে এখন কেন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর শুনানি হচ্ছে।’

এই প্রশ্নের জবাবে কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত দাম না বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল, তাতো বাড়েনি। গ্যাসের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানির কথা বলা হয়েছিল। এলএনজি আশায় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমেছে।’

এর প্রেক্ষিতে বিএনপির এই যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘জেলখানায় না গেলে আবার শুনানিতে এসে এসব কথা মনে করিয়ে দেবো।’

এ সময় তিনি কুইক রেন্টালের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন করলে পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘কুইক রেন্টালের একেকটি মেয়াদ এক এক সময়ের। ফলে একই সঙ্গে সব বন্ধ হবে না। কিন্তু ধীরে ধীরে বন্ধ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশকিছু কেন্দ্র বন্ধ হয়েছে। আর এই কেন্দ্রগুলো নবায়ন করা হচ্ছে না।’

এসময় আলাল আবার প্রশ্ন করেন তাহলে কি অনন্তকাল ধরে এসব চুক্তি চলতে থাকবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *